কোটা সংস্কার আন্দোলনে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা | আপন নিউজ

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান এমপি এবিএম মোশাররফ হোসেন কলাপাড়ায় গৌরবোজ্জ্বল ৯৯ এর নতুন কমিটি গঠন উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটির ঈদ উপহার বিতরণ গাছের সাথে বেঁ’ধে পিটু’নি: কলাপাড়ায় প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের রাঙ্গাবালীতে বিএনপি’র দুই পক্ষের মধ্যে সং’ঘ’র্ষ: আ’হ’ত-১৫ তালতলীতে জমি দ’খ’ল করতে শতাধিক ভাড়াটিয়া স’ন্ত্রা’সী বা’হিনী এনে ঘর নির্মাণ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অনুদান পেল আমতলীর ১৬৫ পরিবার কুয়াকাটায় ঈদ উপলক্ষে ৫ হাজার নারীর মাঝে শাড়ি বিতরণ করলেন সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার সংবাদ প্রকাশের জেরে কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হ’ত্যা’র হু’ম’কি, থানায় জিডি কালবৈশাখী তান্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বিভিন্ন এলাকায় রাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
কোটা সংস্কার আন্দোলনে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা

কোটা সংস্কার আন্দোলনে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা

সঞ্জিব দাস,গলাচিপা প্রতিনিধিঃ দোকান থেকে মামুন হাওলাদার (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে নিয়ে গেল পুলিশ। ১৫ দিন পর হাসপাতাল থেকে লাশ হয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা হলো তাকে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশি হেফাজতে মামুন হাওলাদারের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

মামুন নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার পাগলা বউবাজার এলাকার বালুর ব্যবসা করতেন। তিনি গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের পানখালী গ্রামের মুজাফফর হাওলাদারের ছেলে। ১৮ বছরের সংসারে মামুনের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ছেলে জাকারিয়া ইসলাম জয় ফতুল্লা হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। ছোট মেয়ে জিদনি, বয়স মাত্র চার বছর। পরিবারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন নিঃস্ব পরিবারটি।

নিহতের স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা জানান, গত ২২ জুলাই দিবাগত রাতে মামুনকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন সকালে থানায় গেলেও পরিবারকে মামুনের সাথে দেখা করতে দেয়নি। এরপর প্রতিদিনই পরিবারের সদস্যরা মামুনের সাথে দেখা করার জন্য যেত, কিন্তু পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। প্রতিদিনের মতো গত ৬ আগস্ট দেখা করতে গেলে পুলিশ জানায়, মামুন হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় মামুনের নিথর দেহটা পড়ে আছে; অথচ পরিবারকে মৃত্যুর খবরটাও জানানো হয়নি।

জাকিয়া সুলতানা আরো জানান, মামুনকে কোটা আন্দোলনের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে মুক্ত করার জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। ৩০ হাজার টাকা দিলে অন্য কোনো সাধারণ অভিযোগ দেখিয়ে সহজেই তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে জানায় পুলিশ। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের কাছে তখন ওই পরিমাণ টাকা ছিল না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মামুনের স্ত্রী বলেন, গেল ভালো মানুষ, ফিরল লাশ হয়ে। তিনি তো কোনো রাজনীতি করতেন না। আমি কার কাছে বিচার চাইব? মা হেলেনা বেগম (৬৭) ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ। কাউকে দেখলেই হাউমাউ করে কেদে ওঠে। মা জানান, আমার একমাত্র ছেলের উপার্জনেই সংসার চলত। এখন কে হাল ধরবে সংসারের?

গত মঙ্গলবার মধ্য রাতে মামুনের লাশ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়ি গলাচিপা উপজেলার পানখালী গ্রামে। নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় লাশ।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আল হেলাল কোটা আন্দোলনে চারজনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও প্রকৃত অর্থে এ উপজেলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!